শুধু দাম্পত্য না,জীবনের প্রত্যেকটা পদে,প্রত্যেকটা সম্পর্কের ক্ষেত্রেই একটা ব্যাপার মাথায় রাখলে পথ চলাটা অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়(ইনশাআল্লাহ)
আমরা হায়াতের বেশিরভাগ দিন নষ্ট করে ফেলি,অন্য কেউ আমার সাথে কি করছে,তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থেকে থেকে। এদিকে নিজের আমলনামা শুন্যই পড়ে থাকে।ওদিকে অন্যের শরীরে ভর করে তো তার আমলনামা শুধরে দেয়ারও সুযোগ নেই।ফলাফল-কারোরই কোনো উপকারেই আসেনা আমার হায়াতের মুহূর্তগুলো,দুশ্চিন্তাগুলো।হতাশা ছাড়া অর্জনের তালিকায় আর ছিটেফোঁটাও কিচ্ছু জমা পড়েনা।
কি ব্যাপার মাথায় রাখবো?
আমরা যে চাইলেই কাউকে পরিবর্তন করতে পারবোনা- এই সহজ ব্যাপারটা মাথায় রাখা।আল্লাহ বলেছেন হিদায়াতের মালিক তিনি।শুধু এবং শুধুই তিনি।
আমাদের হাতে কারো হিদায়াত না।আমাদের করণীয়র তালিকায় শুধু ‘চেষ্টা আর দুআ’।
রাসূল(সা:) আপন চাচাকে যেমন হিদায়াতের সুশীতল ছায়ায় টেনে আনতে পারেননি,তেমনি ওনার দুআ-র বরকতে বহু সাহাবীর ভাগ্যে হিদায়াত লাভ হয়েছে।
আমাদের হাতে কিছু নেই যেমন ঠিক,আবার অনেক কিছুই করার আছে-সেটাও ঠিক।
দুআ তো সার্বক্ষণিক জিনিস।
আর প্রচেষ্টা,সেটা কিভাবে?
তাকে বারবার ‘এটা কইরোনা,সেটা করো‘ বলে বলে?
Nope!!
This is not the way!
আমার নিজেকে পরিবর্তন করা,নিজের আখলাক,নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা,আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের জায়গা, নিজের পারসোনালিটি, নিজের হ্যাপিনেস,নিজের আমল-ইবাদাত,আল্লাহর সাথে সম্পর্ক-এসব নিয়ে কাজ করাটা আমার প্রচেষ্টা।
আমি একজনকে সার্বক্ষণিক ভুল ধরিয়ে দিয়ে তাকে শোধরাতে পারবোনা।বরং আমার কোন কাজটা তার ওপর কি প্রভাব ফেলে,সেই কানেকশন নিয়ে ভাবনা,সেই কানেকশনটা হেলদি ওয়েতে ইউটিলাইজ করা,সে অনুযায়ী নিজেকে আর সম্পর্কের প্রতি নিজের ভাবনাটাকে আরেকটু ঘষেমেজে নেয়া-এটা আমার প্রচেষ্টা।
সে কিভাবে কাজ করবে,আমার হাতে না।ওটা শুধুমাত্র তার এবং তার রবের হাতে।আমার হাতে আছে আমি কিভাবে রিএক্ট করবো,কিভাবে কমিউনিকেট করবো।আমি কিভাবে এপ্রোচ করবো,সেটাই আমার হাতে।পরের কন্সিকোয়েন্সটুকু না।সেটার জন্যেই দুআ।
আপাতদৃষ্টিতে, ‘এতে এমন কি আর হবে,খেয়ালই করবেনা,গুরুত্ব দিবেনা,আমারই সব ঠ্যাকা নাকি,আরো পেয়ে বসবে,সে নিজের ভুল না শুধরে উলটো আমাকেই এফোর্ট দিতে হবে ক্যান’ ইত্যাদি মাথায় আসবেই।কিন্তু,প্রত্যেকটা কাজের,ব্যবহারের,স্পর্শের,শব্দের,কথার,আচরণের,এমনকি ফেশিয়াল এক্সপ্রেশনেরও একটা রিএকশন আছেই।
এটা ইন্সট্যান্ট দেখা যাক বা দীর্ঘ সময় পর।
আছেই!
নিজেকে বদলানোটা আমাদের হাতে(আল্লাহ তাওফীক দিলে)
নিজের কাজ, আচরণ, দায়িত্ববোধ নিয়ে ভাবনাটা আমাদের হাতে।অন্যেরটা না।
ঠিক সেজন্যেই বিচারদিবসে শুধুমাত্র আমারটুকুর হিসেবই চাইবেন আল্লাহ আমার কাছে।অন্য কারোটা না(অধীনস্হ হলেও,আমার এফোর্টের সর্বোচ্চ দেয়ার পর সে বিগড়োলে আমাকে দুষবেন না আমার রব,ইনশাআল্লাহ)
ও কেন বদলায়না প্রশ্নটা একপাশে রেখে,নিজেকে বদলানোর চর্চাটা শুরু করা সবচেয়ে জরুরি।ওপাশের বদলটা সেই একশনের ‘রিএকশন’ হিসেবেই চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।
কারণ রব জানেন,আমার ক্ষমতার পরিধি কতোটুকু।
©Tania Noshin Faruque
