Dhaka, Bangladesh

বাচ্চার কান্নার কারণে সালাতের ফুরসত পাইনা:অজুহাত না পরীক্ষা?

প্রেগন্যান্সি নি:সন্দেহে প্রচণ্ড কঠিন একটা সময়।
কিন্তু,ছানা কোলে আসার পরের সময়টা খুব বেশি এলোমেলো আর নিজেকে হারিয়ে ফেলার সময়।

প্রায়োরিটি সেট করাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।প্রায়োরিটিগুলো বুঝলেও,সে অনুযায়ী স্টেপ নিতে না পেরে,শুরু হয়ে যায় ফ্রাস্ট্রেশনের দৌড়ঝাঁপ আর পোস্টপার্টামের বুলডোজার💔

তেমন-ই একটা প্রায়োরিটি ‘ফরজ স্বলাত’।

-একা বাসায় /যৌথ পরিবারেই ছানাকে কিছুক্ষণ ধরবার কেউ নেই
-কোল থেকে নামালেই কান্নাকাটি
-এক সেকেন্ডও আনএটেন্ডেন্ট রাখলে অঘটন/দূর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে
-ছানাকে ২৪/৭ ডায়াপার দেয়া হয়না বলে,নিজের পাকপবিত্র থাকা কিংবা জামাকাপড় পাক থাকা-ই বড় ইস্যু
-স্বলাতের সময় হলেই কান্না/ফীড করতে চায়

এসব ছাড়াও আরো নানা কারণে একেকজন স্বলাত বাদ দিই/ওয়াক্ত পার করে ফেলি💔

কিন্তু,আপারা!বিশ্বাস করেন,এভাবেই করতে হবে। এটাই পরীক্ষা।

ফরজের কোনো মাফ নেই।
একা বাচ্চা পালার দিনগুলো কেমন হয়, কিছুটা হলেও জানি।২৪/৭ কোলে নিয়ে প্রত্যেকটা কাজ করার শারীরিক, মানসিক কষ্টটাও জানি।সেই জানাটুকুকে এক বিন্দুও ওভারলুক না করেই বলছি-

কিচ্ছু করার নেই আপারা!
ফরজ এভাবেই আদায় করতে হবে।সুন্নত না পারলেও , ফরজটা করতে হবেই।

কয়েকটা সাজেশন দিই।

🌻ওয়াক্ত শুরুর আগে থেকেই প্রিপারেশন নেয়া শুরু করবেন।ফীড করিয়ে/ঘুম পাড়িয়ে বা যেকোনোভাবে ওকে শান্ত রাখার চেষ্টা করবেন।

🌻ওযু করার জন্যে ওকে সাথে নিয়েই যান।স্ট্রলার/রকার/বাউন্সারে করে সামনে বসিয়ে রাখুন।সম্ভব না হলে,কোলে নিয়েই ওযু করুন। সময় বেশি লাগবে,পরিশ্রম বেশি যাবে।কিন্তু, সম্ভব।

🌻ওযু করে বাচ্চাকে কিছুক্ষণ সময় দিয়ে(আপনার বাচ্চা কিসে চিয়ার আপ হয়,সেটা আপনি ভালো জানবেন।সেটাই করুন), মুড ঠিক করে দিয়ে,তারপর ওকে বিছানায়/স্ট্রলারে/বাউন্সারে/জায়নামাজে রেখে ওর পাশেই জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে দাঁড়াবেন।একবার সালাম ফিরিয়েই সাথে সাথেই ওকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটবেন,গল্প করবেন।ওকে আবার রিল্যাক্স করবেন।মুড স্যাটেল হলে,আবার দাঁড়াবেন।
এভাবেই করতে হবে।
উপায় নেই।

🌻তাও না পারলে,কোলে নিয়েই পড়ুন।সিজদাহর সময় নামিয়ে পাশে রেখে,আবার সিজদাহ সেরে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়াবেন।

🌻বাচ্চা বসতে শিখলে, আপনার জায়নামাজের পাশে ওকে একটা জায়নামাজ বিছিয়ে দিয়ে একটা ছোট্ট খেলনা দিয়ে বসিয়ে দিন।
নামাজের সময় অকুপাইড রাখার জন্যে কিছু জিনিস আলাদা করে তুলে রাখুন।এমন খেলনা(এনাদের জন্যে থালাবাটিও খেলনা-ই),যেগুলোর প্রতি ওর প্রচণ্ড আগ্রহ আছে।অন্য সময় সেগুলো চোখের আড়ালে রাখবেন।শুধু নামাজের সময় বের করে দেবেন।ব্যস্ত থাকবে।

🌻২৪ ঘন্টায় ১টা সেকেন্ড অকারণে কাঁদতে দিয়েন না বা কাঁদলে সাথে সাথে রেস্পন্স না করে/বুকে না নিয়ে রাইখেন না।-এটা আমি বারবার বলি।
আবারও বলছি।

বাচ্চাগুলোকে কান্নার সময়,এমনকি মন খারাপের সময়টায়ও কক্ষনো আনএটেন্ডেন্ট রাখবেন না।

বুকে জড়িয়ে নেবেন, নেবেন এবং নেবেন।
এবং এটাই উচিত,সাথে সাথে রেস্পন্স করা।কাঁদতে না দেয়া।
নাহলে ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে যথেষ্ট নেগেটিভলি এফেক্ট করে(এটা নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করছিনা,পরে কখনো করতে পারি হয়তো)
কিন্তু,আল্লাহর দেয়া ফরজ সবার উপরে।এসময় কাঁদানো নিয়ে ভাবার উপায় নেই।এসময় কাঁদলে,আল্লাহ ক্ষতির সম্মুখীন করবেন না বাচ্চাটাকে ইনশাআল্লাহ।এতে যেটাই হবে,সেটাই মা এবং ছানার জন্যে সবচেয়ে কল্যাণকর।
জানি,মা হিসেবে কঠিন এটা।কিন্তু,করতে হবে।

এই পরীক্ষাটুকু উৎরানো কঠিন কিন্তু জরুরী।

🌻দুআ করবেন বেশি বেশি।যেন আল্লাহ সহজ করেন,যেন বাচ্চারা শান্ত থাকে নামাজের সময়,যেন খুশু খুযুর সাথে স্বলাত আদায় করার ফুরসত দেয়।

© Tania Noshin Faruque

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
Telegram