ডায়াপার শব্দটা শুনলেই হারেরেরে করে ওঠা মানুষের সংখ্যা এখনো নেহায়েত কম না।
ডিজপোজেবল ইস্যু ছাড়া একটাও যুক্তিযুক্ত কারণ যদিও পাইনি এর পেছনে!নেগেটিভিটি স্প্রেড করা নিয়ে যতটা আগ্রহ,তার কিয়দাংশও সঠিক তথ্য প্রদানের ব্যাপারে নেই!
সেলুকাস!
প্রত্যেক বাচ্চার ব্যাপারে ডিসিশনটা শুধু এবং শুধুমাত্র তার বাবা-মায়েরই হওয়া উচিত।হ্যাঁ,অন্যরা সাজেশন দিতে পারেন বেশি হলে।কিন্তু,মতামত চাপিয়ে দেয়া/জোরাজুরি করি/বাঁকা দৃষ্টি হেনে এফোঁড়ওফোঁড় করা/জাজমেন্টাল হওয়া-these shouldn’t take place.
“নতুন মা”-এর চেয়ে ভালনারেবল ক্রিয়েচার আর কিছু বোধহয় নেই এই ভুবনে।এই অবস্থায় জানা জিনিসও অজানা লাগে,আর তখনই আশেপাশে কুযুক্তি আর ভিত্তিহীন তথ্যসমৃদ্ধ উপদেশের ঝড় বইতে থাকে তুমুল বেগে।
Tough time,huh??
আগে থেকে জানা থাকলে,সঠিক তথ্য জানা থাকলে-একটু হলেও সহজ হয় জার্নিটা। নিজেকে স্থির রাখা যায়,’আমি যেটা করছি,ঠিক করছি’ বিশ্বাস নিয়ে।
For all the new moms,would be moms,আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু জিনিস শেয়ার করছি।Hope it will help inshaAllah.
১.
কন্যা কোলে আসার আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম ২৪/৭ ডায়াপার দেবো।
কিন্তু ঐযে!থিওরিটিক্যাল জ্ঞান আর প্র্যাক্টিক্যাল লাইফ ভিন্ন হয়!
কন্যা জন্মের মুহূর্ত থেকে ডায়াপারে থাকলেও, ১২ঘন্টা পরেই নিজের বাসায় ফেরার পর থেকে শুরু হলো স্ট্রাগল।
ব্রেস্টফীডিং স্টুল পাস হওয়া শুরু হলো।
ফীড করছে,স্টুল পাস করছে,তক্ষুণি আবার ক্ষিধে পাচ্ছে।আবার ফীড করছে,আবার স্টুল!প্রতিবার স্টুলের সাথে হিসুও আছে।আবার এম্নিও হিসু করছে।
ওকে খাওয়াবো নাকি ডায়াপার চেঞ্জ করবো নাকি কান্না থামাবো(এক সেকেন্ড তিনি নোংরায় থাকবেন না — ক্লিন করার সময়টাও দেবেন না — শুচিবায়ুগ্রস্ত মহিলা)!
রাত পেরোবার আগে দেড় প্যাকেট ডায়াপার এবং আমার নিজের সব এনার্জি ‘শ্যাষ!’
খতম!!
খত দিলাম নাকে কানে!
সন্ধ্যের পর বা একটু রাত হলে ডায়াপার দিই।আর সারাদিন কাঁথা বদলাই।একদিনে(দুপুর থেকে সন্ধ্যে আর কি!) ১৫/২০টা কাঁথা লেগে যাচ্ছে।
স্টুল মাখা কাঁথা ধোয়ার হ্যাঁপা থেকে বাঁচতে নানা ট্রিক বের করলাম।ন্যাপি নাহয় কিচেন টিস্যু(একটু মোটা হয় বলে ভিজে গিয়ে টিস্যুর পার্টিকেলস স্কিনে লেগে যাওয়ার চান্স থাকেনা) পাছুর নিচে দিয়ে দিতাম🐸পটি ওটায় লাগতো আর কাঁথায় জাস্ট পানি।ইজিলি ধোয়ার জন্যে উপায় বের করা আর কি!
রুটিন করে ফেললাম,ধোয়াধুয়ির ঝামেলাটা একটু লাইনে আনলাম।
(ধোয়াধুয়িটা পুরোটাই আম্মা করতেন❤আমাকে,ছানাকে আর আমার ঘরটাকে সামলেও কিভাবে এসব করতেন আমি জানিনা!আম্মা সুপারওম্যান)
চললো এভাবে মাসখানেক।
সামারিঃ প্রথম মাসটা এই ব্রেস্টফীডিং স্টুলের চক্করেই কাটবে।২৪/৭ডায়াপার দিতে পারেন যদি ধোয়াধুয়িটা এক্সট্রা পেইন হয়ে দাঁড়ায়,তাহলে।কিন্তু, খুব খেয়াল রাখবেন,যেন পটি করামাত্রই চেঞ্জ করা হয়।
ধোয়াধুয়িটা ম্যানেজেবল হলে প্রথম কিছুদিন দিনের কিছুটা সময় ডায়াপার ফ্রি রেখে কাঁথায় ম্যানেজ করাটাই কনভেনিয়েন্ট এন্ড এফোর্ডেবল অলসো।
২.
ডায়াপার র্যাশ নিয়ে আতংক খুব কমন।
কিন্তু,র্যাশটা সত্যি বলতে ডায়াপারের জন্যে কখনোই হয়না!
হয় ডায়াপার প্রপারলি মেইনটেইন করতে না পারার জন্যে।
মেইনটেইন করুন।
প্রথমে আসি ডায়াপার চেঞ্জের ব্যাপারে।
-ডায়াপার খুলবেন।
-ওয়াইপস দিয়ে সুন্দওওওওওরভাবে ক্লিন করবেন যতক্ষণ না ওয়াইপস দয়ে ঘষা দেয়ার পর একদম চকচকা আসতেছে🥱
-পটি কখনোই পেছন থেকে সামনে মুছবেন না।সামনে থেকে পেছনে মুছবেন অলয়েজ।ইনফেকশন হবার এটা সবচেয়ে সবচেয়ে সবচেয়ে বড় কারণ!
-এবার একটা ওয়াইপস পানিতে ভিজিয়ে, চিপে বাড়তি পানি ফেলে সেটা দিয়ে একবার মুছিয়ে নিন।ওয়াইপসের কেমিকেলের জন্যে র্যাশ হয় বহু বাচ্চার! তাই এটা খুব খুব ইফেক্টিভ আলহামদুলিল্লাহ।
-জায়গাটা এয়ারড্রাই করুন মিনিটখানেক খোলা রেখে।
-তারপর অলিভ অয়েল লাগান ভাঁজগুলোতে।যেখানে যেখানে পটি লেগে যাবার সম্ভাবনা আছে,সেই প্রত্যেকটা জায়গায় লাগান।
এটা বাচ্চার স্কিন আর পটির এসিডের মাঝে ব্যারিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
এটা মাথায় রেখে যে যে জায়গায় লাগানো দরকার,লাগান।তবে প্রাইভেট পার্টের ভেতরের দিকে দিতে যেয়েন না তাই বলে🤐❤
-এবার টুকুশ করে নতুন ডায়াপারটা পরিয়ে দিন।ইলাস্টিক এট্টু খেয়াল করে বাইরের দিকে করে দিয়েন😬নাহলে লীক করে যাবে আর দোষ পড়বে বেচারা ডায়াপার কোম্পানির ওপর!
৩. দিনে ১৫/২০মিনিট ডায়াপার ফ্রি টাইম দিতে পারেন সম্ভব হলে।তবে মাস্ট কিছুনা।দিতে পারলে ভালো।
৪. ডায়াপার থিন হয় যেন,খেয়াল করবেন,তাহলে বেবির জন্যে আরামদায়ক হবে।
৫. সব বাচ্চার জন্যে ওজন অনুযায়ী ডায়াপার কেনাটা ফ্রুটফুল হয়না।হাইটের কারণে সমস্যা হয়ে যায় সাইজে।আবার ব্র্যান্ড টু ব্র্যান্ডও ভ্যারি করে।তাই আগে ছোট ট্রায়াল প্যাক কিনে তারপর বড় প্যাক কিনতে সাজেস্ট করবো।
তবে একবারে বেশি স্টক করাটা ওয়াইজ ডিসিশন না।ঠুশ করে একটা গ্রোথ স্পার্টেই দুনিয়াদারি বদলায় যায় এদের!বস্তা বস্তা ডায়াপার নিয়ে তখন রিসাইকেল বিনে দৌড় করতে হবে😑
৬. প্রাইভেট পার্ট(বিশেষ করে মেয়ে বেবিদের ক্ষেত্রে) প্রতিদিন একবার অন্তত নরম সুতি কাপড় আর পানি দিয়ে ক্লিন করা জরুরি। ভেতরটা।
৭. পটি করামাত্রই চেঞ্জ করত হবে।ইভেন মাত্র ডায়াপার পরাচ্ছি,এমন সময়ও যদি করে,throw it away!
Instantly.
৮. হিসুর ক্ষেত্রে ৪-৬ঘন্টা রাখা যায় এক ডায়াপার,যদি ফুল না হয়।আর যদি ফুল হয়ে যায়,তক্ষুণি চেঞ্জ।তা যদি এক ঘন্টায়ও ফুল হয়ে যায়,তাহলে এক ঘন্টায়ই চেঞ্জ।
তবে বড় হতে হতে এটা ৮/৯ঘন্টায়ও গড়ায়।ব্র্যান্ড টু ব্র্যান্ড শোষণক্ষমতা ভ্যারি করে।
ওয়েদারের ওপরও।
আবার ফীডের ফ্রিকোয়েন্সির ওপরেও।
তাই বারবার চেক করে দেখে,সে অনুযায়ী চেঞ্জ করবেন।
৯. লুজ ডায়াপার জিনিসটা যথেষ্ট কাজের। আরএফএলের রেইনবোটা নিয়ে আমার এক্সপেরিয়েন্স টপ নচ!সব হাই এন্ড ব্র্যান্ডের ডায়াপার ফ্রি করে দিলেও,এটাই কিনবো আমি!
যতটা ভালো শোষণক্ষমতা,ততটাই পাতলা আর আরামদায়ক। আর সাথে রিজনেবল প্রাইস তো আছেই!
প্রায় সব ব্র্যান্ডই ব্যবহার করেছি কমবেশি, still I prefer this one.
(Othoba.com থেকে নেই আমি।এখানে দেখতে পারেন।ফ্রি ডেলিভারি,ডিসকাউন্টেড প্রাইস তো আছেই।সাথে কোয়ালিটিফুল প্রোডাক্ট পাওয়া যায়,এটা সবচেয়ে বড় ব্যাপার আলহামদুলিল্লাহ)
১০.ডে১ থেকে নাভি পড়া অবধি ব্যবহারের জন্যে নিওকেয়ার নিউবর্ন সাইজটা ব্যবহার করা বেস্ট।নাভির জায়গাটা সুন্দর করে কাটা থাকে,ভাঁজ করে নিলে আরো নামিয়ে নেয়া যায়।
সাইজটাও পারফেক্ট,হাইটে বড় বেবিদের জন্যেও ঠিকঠাক হয়ে যায়।
নাভি পড়ার পর থেকেই লুজটা দিতে পারেন।প্রপারলি ইউজ করলে,র্যাশ না এসব কিছুর ভয় থাকবেনা ইনশাআল্লাহ।
১১. আই রিয়েলি ডুন্নু কে বা কারা ‘ডায়াপারে ঠান্ডা লাগে’ থিওরি আবিষ্কার করেছে।
কিন্তু বাস্তবতা এর উল্টোটা!
ডায়াপার ঠান্ডা লাগা থেকে বাঁচায়!কাঁথা/ওয়াশেবল ডায়াপারে বরং ভেজা থেকে ঠান্ডা লেগে যায় বাচ্চাদের -_- কমনসেন্স!
লাস্টলি!
আপনার বাচ্চা,আপনার সিদ্ধান্ত!
আপনার আর আপনার বাচ্চার যেটাতে কমফোর্ট হবে,সেটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।আমার ছানা নিজেই ডায়াপার ছাড়া স্বস্তি পায়না,আমিও কাঁথা ধোয়া কিংবা চেঞ্জ করার পক্ষপাতী না,হাইজেনিকও লাগেনা জিনিসটা।ডায়াপার ছাড়া কোলে নেয়ারও কি প্রসেস,আমার জানা নাই!মাঝেমধ্যে ভাবি,কেম্নে নেয়া যায়,উপায় পাইনাই।রাতের ঘুম বলি বা দিনের কর্মব্যস্ত সময়-কোনোটার জন্যেই আমার কাছে কাঁথা বদলানো সুবিধার কাজ মনে হয়নাই।কয়েক সেকেন্ড দেরি করলে ঐ ভেজা কাঁথায় পড়ে থাকবে বা পটি মাখায়ে ফেলবে এটা আমার পছন্দের ব্যাপার না।
অবশ্যই এফোর্ডেবেল যেন হয়,তাইজন্যেই লুজটার কথা বলা।সেটাও এফোর্ডেবল না হলে অবশ্যই কাঁথা প্রেফারেবল।অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই!
কিন্তু,এফোর্ডেবল হওয়া সত্ত্বেও,ডিসকমফোর্ট হওয়া সত্ত্বেও লোকের কথার ভয়ে নিজের আর বাচ্চার শান্তি বিসর্জন দেয়ার আগে enlighten yourself.
যেন উত্তর দিতে পারেন ভিত্তিহীন কথার।এবং ক্ষেত্রবিশেষে যেন উত্তর না দিয়ে,চুপচাপ ইগনোর করেই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেন।
আমি কাঁথা দিলে,স্বেচ্ছায় দেন।
লোকের ভয়ে না কিংবা কোনো ভুল তথ্য বা ধারণার ভিত্তিতে না,That’s all I wanted to tell you❤
Happy motherhood❤
© Tania Noshin Faruque
