নতুন মায়েদের জন্যে বাচ্চার ছোট্ট হাঁচি-টাও যে কতটা দুশ্চিন্তা বয়ে আনে,একটা পুঁচকে রাজকন্যার মা হওয়ার সুবাদে সেই ধারণা খুব ভালোমতোই আছে বলা যায়।
তার ওপর যদি আশেপাশের মানুষ থাকে তিলকে তাল করে স্ট্রেসড করে দেবার জন্যে,তাহলে তো কথা-ই নেই!
সেজন্যে সবচেয়ে জরুরি,নলেজ গ্যাদার করা।যত সম্ভব,তত!
যত নলেজ গ্যাদার করা যাবে,তত শক্তভাবে নিজের স্ট্যান্ডে স্টিক করে থাকা যাবে।
তবে হ্যাঁ,শুধু জেনে লাভ নেই,যদি না মানসিকভাবে দৃঢ় হওয়া যায়।তখন আরো মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হবে মাঝখান থেকে।
যা-ই হোক।
মূল ঘটনায় আসি।
কন্যার বয়স শূন্য দিন থেকেই তার এক খুব নিকটজনের দুশ্চিন্তা ছিলো কন্যার পটি নিয়ে।প্রতিদিন করছে কি-না।
এদিকে আমি দিন গুনছিলাম,কবে থেকে পটির ফ্রিকোয়েন্সি কমবে আর আমি একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচবো সারাদিন এই একটুপরপর কাঁথা(এতো এতো বেশি ফ্রিকোয়েন্টলি বিএম স্টুল পাস করছিলো, ডায়াপার চেঞ্জটাই টায়ারিং হয়ে যাচ্ছিলো।তাই তখন দিনের কিছুটা সময় কাঁথা ইউজ করতাম।তবে এটা খেয়াল রাখতাম,যেন এক সেকেন্ডও হিসু বা পটি করা অবস্থায় কাঁথায় না থাকে।তাৎক্ষণিকভাবে চেঞ্জ করে দিতাম) আর ডায়াপার চেঞ্জ করার হাত থেকে মুক্তি পাবো!
আগে থেকেই জানা ছিলো,ফুল বিএম বেবিদের পটির ব্যাপারে।তাই অপেক্ষা করছিলাম কিছুদিন পর এটা কমে ‘কয়েকদিনে একবার’ -এ নেমে আসবে বলে।
কিন্তু, প্রতিদিন এই এক প্রশ্ন আর এক উত্তর দিতে দিতে টায়ার্ড আমার আসল ধৈর্য্য পরীক্ষা তখনো বাকি।
কন্যার বয়েস প্রায় মাস গড়ালো আর পটি কয়েকদিন পরপর করা শুরু হলো।
ব্যস!!!
কি কি উপদেশ আর বাক্যবাণ আসতে পারে,সদ্য সন্তান জন্মদান করা মায়েদের নিশ্চয়ই ধারণা আছে!
বাক্যবাণের অস্থিরতা সয়ে এলেও,বাচ্চার বাবা আর আমি মিলেও তাকে বোঝাতে না পেরে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে আমি নিজেই টালমাটাল হয়ে গেছিলাম একবার।হতাম না আসলে,যদি না কন্যা নিজেই তখন ডিসকমফোর্ট শো করতো।
আলহামদুলিল্লাহ, আরো দু’জন মায়ের কাছে শেয়ার করার পর,তাদের দেয়া শক্তিটুকু নিয়ে আবার শক্ত হয়ে যেতে পেরেছিলাম🌼
আলহামদুলিল্লাহ।
সঠিক তথ্য না জানা থাকায় অস্থির হয়ে যাওয়া মায়েদের জন্যে আর আমার মতো জানা থাকাসত্ত্বেও চাপ সামলাতে না পেরে টালমাটাল হয়ে যাওয়া মায়েদের জন্যে রিমাইন্ডার হিসেবে বলছি-
১. যদি বাচ্চা ফুল বিএম হয়,প্লিজ প্লিজ প্লিজ এবং প্লিজ,ওর পটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় অস্থির হবেন না!
২. ফুল বিএম বেবিদের জন্যে ৫-৭দিন পরপর পটি করা,নরমাল।
I repeat, NORMAL!
It’s totally normal!!!!
যদি বাচ্চা কোনো ধরনের ডিসকমফোর্ট শো না করে এবং অন্যান্য সবকিছু নরমাল থাকে।
৩. দিনে ৫-৭বার পটি করাটাও নরমাল!
৪. কোনো ধরনের বাহ্যিক স্টিমুলেশন(সাপোজিটর,পানের বোঁটা and what not!) দিয়ে বেবিকে পটি করানোর চিন্তা মাথা থেকে ঝাড়ুন।
তাকে নিজে নিজে পটি করতে দিন,ন্যাচারালি।
ন্যাচারাল বাওয়েল মুভমেন্ট-টা নষ্ট করবেন না স্টিমুলেট করে।
এতে ভবিষ্যতে ভুগতে হবে।
৫.সাপোজিটর ৭দিনের পর ভাববেন,সেটাও ডক্টরের পরামর্শ অনুযায়ী।
৬. যদি বাচ্চা ডিসকমফোর্ট শো করে,বোঝার চেষ্টা করুন সমস্যাটা কোথায়।অনেক ক্ষেত্রেই গ্যাসের কারণে পটি ডিলে হয়।
সেক্ষেত্রে বেবিকে সোজা করে কোলে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করুন।
টামি টাইম দিন।
সাইক্লিং এক্সারসাইজ,বেলি মাসাজ দিন।
বার্প করান,খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে।
গ্যাসের মেডিসিন দিন (ডক্টরের পরামর্শক্রমে)
৭. এই সবকিছুর পর আর কিছুই করতে হবেনা ইনশাআল্লাহ। তবুও যদি ৭দিন পেরিয়ে যায়,then you can consult a doctor(ডক্টর কন্সাল্ট করতে পারেন।কিন্তু,পানের বোঁটা বা কিছু নিয়ে গুঁতোগুঁতি না)
তিনি সাপোজিটর সাজেস্ট করলে,go for that.
One more thing.
আপনি যদি ডে১ এ যেয়েই বলেন বাচ্চা পটি করেনা,কি করবো?He might prescribe you a suppository, tbh! এজন্যে না যে উনি দরকার মনে করছেন,বরং এজন্যে যে আমাদের বোঝানো দুঃসাধ্য!আমরা মাথা খারাপ করে দেই এসব ইস্যু নিয়ে।তারচেয়ে এটা প্রেসক্রাইব করে দেন।এতো হ্যাসেল নেয়ার ইচ্ছে সব ডক্টরের থাকেনা।
কিন্তু সেই একই ডক্টরকে যদি জিজ্ঞেস করেন কতদিন অপেক্ষা করা উচিত উনিই বলবেন ‘অন্তত ৫-৭দিন’
তাই,’ডক্টরও তো প্রেসক্রাইব করলেন’ বলে ব্যাপারটাকে misinterprete করবেন না।
বাচ্চার কিছু নিয়ে অস্থির হবেন না বলছি না।
হবেন।
তবে ‘জেনে,শুনে,বুঝে’, তারপর!
আশেপাশের কোনো ‘সবসময় চলে আসছে’ ধরনের কথা শুনে না।
Tania Noshin Faruque
-8 sept,2022
